মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, প্রতিনিধি, পঞ্চগড় ঃ পঞ্চগড়ের প্রাচীনতম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ বা এমআর কলেজে শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ৯টি বিষয়ে অনার্সসহ ১৫টি বিষয়ের জন্য সহযোগি অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের ৪৩টি সৃষ্টপদের মধ্যে ৬ হাজারেরও বেশী শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। প্রভাষকের ২৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন অর্ধেক। সহকারী অধ্যাপকের ১৩টি পদের মধ্যে ৫টি পদ শুন্য আর সহযোগি অধ্যাপকের ছয়টির মধ্যে শুন্য একটি। বাংলা ও ইংরেজী বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে একাধিক পদ শুন্য রয়েছে। আবার উদ্ভিদবিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে কোন শিক্ষকই নেই এখানে। শুন্য রয়েছে উপাধ্যক্ষের পদটিও। শিক্ষক সংকটের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই এই কলেজটির ফলাফল আশানুরূপ নয়। জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগি মকবুলার রহমান ৬.১৬ একর জমিতে তার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৫ সালে এটি জাতীয়করণ হয়। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ডিগ্রী চালু করা হয়। বর্তমানে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে মাস্টার্স কোর্সও চালু রয়েছে। পরবর্তিতে অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত বিষয়েও চালু হয় অনার্স ডিগ্রী। বর্তমানে ৯টি বিষয়ে অনার্স ডিগ্রী চালু থাকলেও নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এনাম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ি ৯ বিষয়ে অনার্স কোর্সের জন্য প্রতি বিষয়ে ৮জন হিসেবে ৭২ জন শিক্ষক থাকার কথা। সেখানে সৃষ্ট পদ রয়েছে ৪৩টি। আর সব বিষয় মিলে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৫ জন শিক্ষক। তারা আবার অনার্সের পাশাপাশি এইচএসসি, ডিগ্রী ও মাস্টার্স বিষয়ে পাঠদান করে আসছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে বিভিন্ন বিষয়ে অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদের সবাই কর্মরত রয়েছেন। অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের একটি পদের মধ্যে একটিই শুন্য এবং প্রভাষকের দু’টির পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন একজন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদে একজন কর্মরত থাকলেও একটি সহযোগি অধ্যাপকের পদ শুন্য রয়েছে। ইতিহাস বিভাগের একটি পদ শুন্য দীর্ঘদিন ধরে। ইসলামের ইতিহাস বিভাগ চলছে একজন শিক্ষক দিয়ে। দর্শন বিভাগে দু’টি পদ শুন্য রয়েছে। ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স থাকলেও দু’টি বিভাগেই একজন করে সহযোগি অধ্যাপক কমর্রত রয়েছে। সহকারী অধ্যাপকের একটি ও প্রভাষকের দু’টি করে পদই শুন্য। উদ্ভিদবিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে কোন শিক্ষকই নেই। উপাধ্যক্ষের পদটিও এখন শুন্য রয়েছে। এদিকে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদর্শকের ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক কাজগুলো করতে পারছেনা। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমানে কলেজটিতে হোস্টেলের কোন সমস্যা না থাকলেও সীমানা প্রাচীর না থাকায় সবসময় বখাটে ও বাইরের লোকজনের যাতায়াতে এখানে শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া কলেজের নিজস্ব কোন অডিটোরিয়াম নেই। বিভিন্ন দিবসের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শ্রেণিকক্ষেই করা হচ্ছে। বহু আগে নির্মিত জরাজীর্ণ একটি ভবনে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এখানে জরুরী ভিত্তিতে একটি প্রশাসনিক ভবন ও আধুনিক লাইব্রেরী প্রয়োজন। শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ দেলওয়ার হোসেন প্রধান বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি প্রতি মাসেই মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য খন্ডকালীন কিছু শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করা হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বোদায় ১ মেয়র সহ ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল
- » বোদায় গৃহবধূর রহস্য জনক মৃত্যু, আটক ১
- » বোদা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
- » বোদায় নৌকা প্রতিক পেলেন এ্যাডঃ ওয়াহিদুজ্জামান সুজা
- » বোদায় ধানের শীষ প্রতীক হকিকুল ইসলাম পাওয়ায় ভোটারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হিসেব নিকেশ করছে
- » ৭মার্চ ভাষণে ইউনেষ্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় পঞ্চগড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা
- » বেগম জিয়ার মিশন এবার রংপুর
- » ভুরুঙ্গামারীতে ট্রাকের ধাক্কায় যুবলীগ নেতার মৃত্যু
- » ৭মার্চ ভাষণে ইউনেষ্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় পঞ্চগড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা
- » অযতœ অবহেলায় বোদার ঢাপঢুপ বধ্যভূমি স্বাধীনতার ৪৬ বছরে অনেকে বেঁচে আছে শরীরের ক্ষত চিহৃ নিয়ে ঢাপঢুপ বধ্যভূমির হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষকে শিউরিত করে










Leave a Reply